শেখ ফয়সল আহমদ, ওসমানীনগরঃ বোরো মৌসুমে চারা রোপণ শেষ হলেও পানির অভাবে দিশেহারা সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কৃষকরা। সেচের পানির প্রধান উৎস হাওর, নদী ও খালগুলো এখন পুরোপুরি পানিশূন্য। খরতাপের প্রভাবে একসময়ের উত্তাল হাওর এখন যেন ধু-ধু মরুভূমি। নিয়মিত খননের অভাব আর অবৈধ দখলের কারণে পানিশূন্যতা এখন কৃষকদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিশাল হাওরাঞ্চলের বানাইয়া, মোক্তারপুর, নিরাইয়া, কালাসাড়া, রউনিয়া, লেংরা ও যুগনীগড়সহ বিভিন্ন এলাকা এখন পানিশূন্য। নাটিখিলা নদী, বুড়ি নদী, কেওয়ালী খাল ও দাসপাড়া খালের তলদেশ শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। যেখানে এই সময়ে পানির ঢেউ থাকার কথা, সেখানে এখন উড়ছে ধুলোবালি।
সমস্যা আরও প্রকট করেছে অবৈধ দখলদাররা। পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার, বুরুঙ্গা বাজার, জামতলা বাজার এবং উছমানপুর ইউনিয়নের মাদার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নদী ও খালের পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে স্থায়ী-অস্থায়ী অসংখ্য দোকানপাট ও মার্কেট। খাল-নদীর পাড় দখল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, কিন্তু প্রশাসনের যেন কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
পানির অভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় জেলেদের ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী পানসী নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান এখন আর চোখে পড়ে না।
কৃষক আবুল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “জমিতে সেচের অভাবে ফসল নষ্ট হচ্ছে, গরু-ছাগলের গো-খাদ্যেরও সংকট তৈরি হয়েছে। এভাবে চললে আমরা বাঁচব কীভাবে?”
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তামিমা এবং মৎস্য কর্মকর্তা দ্রুত খনন কার্যক্রম শুরুর তাগিদ দিয়েছেন। অন্যথায় ভবিষ্যতে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিটি/শেফআ
