মোঃ লিমন আহমদঃ সিলেটের রাজনীতিতে একটি জনপ্রিয় ও রহস্যময় প্রবাদ আছে— ‘সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সেই দলই সরকার গঠন করে’। স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে এই মিথ একবারের জন্যও মিথ্যে হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেই ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল। সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বিশাল জয়ের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রেও বড় ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি।
বিগত সব নির্বাচনে দেখা গেছে, আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে যে দলের নেতা বিজয়ীর মালা পরেছেন, সেই দলই বঙ্গভবনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সিলেট - ১ আসনে ১৬ হাজার ৪৩৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বেসরকারি ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩২ ভোট। আর এর মাধ্যমেই দেশজুড়ে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সর্বশেষ পাওয়া বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার জোট ২১৩টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির এই ফেরা যেন সিলেট-১ আসনের সেই পুরোনো প্রবাদকেই নতুন করে স্বীকৃতি দিল।
ফলাফল গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই সিলেট নগরী ও সদর এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন ভোটাররা বলছেন, “সিলেটের ভাগ্য আর দেশের ভাগ্য যেন একই সুতোয় গাঁথা। মুক্তাদির সাহেবের বিজয় আসার সাথে সাথেই আমরা নিশ্চিত হয়েছিলাম যে, দেশেও ধানের শীষের সরকার আসছে।”
এক নজরে সিলেট-১ এর ফলাফল:
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (ধানের শীষ): ১,৭৩,৯৩২ ভোট
মাওলানা হাবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা): ১,৩৪,৯৮৩ ভোট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল একজন প্রার্থীর নয়, বরং সিলেটের সেই ঐতিহাসিক মিথ বজায় থাকার এক অনন্য নজির। দেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সিলেট-১ আসনের এই গুরুত্ব ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সিটি/লিআ
