সিলেট ট্রিবিউন ডেস্কঃ সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে। বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো অ্যাম্বুলেন্সটি যখন এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে সেখানে পৌঁছালো, তখন চারদিকে পিনপতন নীরবতা। দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিথর দেহের পাশে যখন বড় ছেলে তারেক রহমান এসে বসলেন, তখন তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব আবেগঘন মুহূর্ত।
মায়ের মরদেহের কফিনের পাশে বসে দীর্ঘক্ষণ দোয়া পাঠ করেন তারেক রহমান। রাজনীতির কঠিন সমীকরণ ছাপিয়ে সেখানে বড় হয়ে উঠেছিল মা আর সন্তানের চিরন্তন বন্ধন। কফিনের শিয়রে বসে থাকা তারেক রহমানের দু’চোখে ছিল প্রিয় হারানোর শোক, আর হৃদয়ে ছিল মায়ের জন্য শেষ প্রার্থনা।
এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও পরম আত্মীয়রা। বেগম জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধা ও দলের শীর্ষ নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড়ে এক বিষণ্ণ পরিবেশ বিরাজ করছিল পুরো বাসভবন এলাকায়।
বেগম জিয়ার জানাজা ও দাফন ঘিরে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই শেষ শ্রদ্ধার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে অনুষ্ঠিতব্য সেই জানাজা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
সিলেটট্রিবিউন/লিআ
