সিলেট ট্রিবিউন ডেস্কঃ দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেন।
মঙ্গলবার (৬ মে) সকালে কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে নামার পর তাকে রাজধানীর ধানমন্ডির ‘মাহবুব ভবনে’ নিয়ে যাওয়া হয়, যেটি তার পিতৃভবন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তার আগমন উপলক্ষে মাহবুব ভবনে ইতোমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সিসিটিভি স্থাপনসহ একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীতে অবস্থানকালে জুবাইদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বিক নজরদারির প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
একই বিমানে তার সঙ্গে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ছোট পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান। চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ চার মাস লন্ডনে অবস্থান শেষে তারা একসঙ্গে দেশে ফিরে আসেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তারেক রহমান, জুবাইদা রহমান ও তার মা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয়। ২০২৩ সালে ঢাকার এক আদালত এ মামলায় জুবাইদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা জরিমানার রায় দেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উচ্চ আদালত রায়টি স্থগিত করে।
চিকিৎসক হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমানের রয়েছে সম্মানজনক পেশাগত পরিচিতি। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে মেডিসিনে এমএসসি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৫ সালে বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও ২০০৮ সালে লন্ডনে শিক্ষা ছুটিতে গিয়ে পরবর্তীতে চাকরিতে ফেরত না আসায় তাকে বরখাস্ত করা হয়।
সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণকারী ডা. জুবাইদা রহমান প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলীর কন্যা। মাহবুব আলী ছিলেন জিয়াউর রহমান সরকারের সময় নৌবাহিনী প্রধান এবং এরশাদ সরকারের সময় যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী ছিলেন তার চাচা। ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
