নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন একসময়কার আওয়ামী লীগপন্থী খোকন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, কোনোভাবেই স্বৈরাচারের দোসরদের দলে পুনর্বাসন করা যাবে না। তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জেলা যুবদল ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক নেতা বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। এই পরিস্থিতিতে নেতিবাচক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন খোকন, যিনি একসময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খোকনের অটোরিকশার গ্যারেজ ছিলো মাদক ও নেশার আস্তানা। সন্ধ্যার পর সেখানে মদ ও ইয়াবা সেবনের আসর বসত, যেখানে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার যাতায়াত ছিল।
এছাড়াও, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে খোকনের বিরুদ্ধে। তিনি একসময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব চালাতেন। তবে সরকারের পরিবর্তনের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পাল্টে বিএনপিতে জায়গা করে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির একাধিক ত্যাগী নেতা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য খোকনকে দলে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। এদিকে, খোকনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশংসায় ভরা পোস্ট করা হলেও, সম্প্রতি তিনি বিএনপি ও তারেক রহমানের প্রশংসায় পোস্ট করছেন। যা তার রাজনৈতিক অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকানো না গেলে দলের আদর্শিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে। নেতাকর্মীদের দাবি, বিএনপি যেন অর্থের বিনিময়ে চিহ্নিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন না করে, বরং প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে। অন্যথায়, সাধারণ জনগণের মাঝে নেতিবাচক বার্তা যাবে এবং দলীয় ঐক্যে ফাটল ধরতে পারে।
