বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকেঃ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের অর্জন নয়, এটি সমগ্র জনগণের আন্দোলনের ফল। যারা একে বিপ্লব হিসেবে চিত্রিত করতে চাইছেন বা দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে অভিহিত করছেন, তারা প্রকৃত অর্থে বিভ্রান্তির শিকার।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। ৫ আগস্ট যা ঘটেছে, তা ছিল জনগণের সম্মিলিত গণঅভ্যুত্থান, যেখানে ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এই অর্জন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নয়—এর প্রকৃত মালিক পুরো দেশবাসী।"
তিনি রবিবার (২৩ মার্চ) বিশ্বনাথ উপজেলা মডেল মসজিদ হলরুমে উপজেলা খেলাফত মজলিস আয়োজিত ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ বলেন, জনগণের সম্মিলিত প্রতিবাদ এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে এই পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, "দেশের মানুষ অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই করেছে, যা কোনো দলের একক কৃতিত্ব নয়।"
সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওলিউর রহমান বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো স্বৈরশাসকই টিকে থাকতে পারে না।"
বিশ্বনাথ উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— মাওলানা নেহাল আহমদ (সিলেট জেলা খেলাফত মজলিস সভাপতি), মাওলানা ওলিউর রহমান (সিলেট জেলা খেলাফত মজলিস সহ-সাধারণ সম্পাদক), কাজী মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ (সিলেট জেলা খেলাফত মজলিস সাংগঠনিক সম্পাদক), মাওলানা হাবিবুর রহমান (বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান), মাওলানা শামসুল ইসলাম (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিলেট জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মাহবুবুর রহমান আঙুর (আঞ্জুমানে আল ইসলাহ বিশ্বনাথ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক), মুফতি শিহাব উদ্দিন, অধ্যক্ষ সায়েফ আহমদ সায়েক, অধ্যক্ষ গৌছ উদ্দীন, হাফিজ শরিফ উদ্দিন, হাফিজ মুহসিন আহমদ, এনামুল হক, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, আলী আহমদ, রাসেল শিকদার, জাহেদ আহমদ জেহীন, লুৎফর রহমান, ওলিউর রহমান আরিফ, মজদুদ্দীন মাজেদ, মাষ্টার আব্দুল আহাদ, মাওলানা কামাল উদ্দিন, বুরহান উদ্দিন, আব্দুল জলীল, আব্দুর রহমান, লুকমান আহমদ প্রমুখ।
সভায় কোরআন তেলাওয়াত করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ রফিক আহমদ। শেষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তন আনতে হলে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই মুখ্য। গণঅভ্যুত্থান কোনো একক গোষ্ঠীর কৃতিত্ব হতে পারে না, এটি জনগণের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল। বিশ্বনাথের এই আলোচনা সভায় সেটিই আবারও প্রমাণিত হলো।
