নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সীমান্তের ওপারে ভারতের উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ফলে পুরো জেলাজুড়ে আবারও এক ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঢলের পানিতে ইতোমধ্যে পুরোপুরি তলিয়ে গেছে কোম্পানীগঞ্জের দেশের বিখ্যাত ‘সাদাপাথর’ পর্যটন কেন্দ্র। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তা বিবেচনায় সাদাপাথর স্পটটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
আজ রবিবার (২১ জুন) কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাধীন ‘সাদাপাথর’ পর্যটন স্পটটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও আবহাওয়া স্থিতিশীল হলে স্পটটি পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ রবিন মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, "ভারতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। নদীতে বর্তমানে প্রচণ্ড স্রোত বইছে, যা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে স্পটটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।"
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাসে সিলেটবাসীর জন্য চরম আশঙ্কার বাণী শোনানো হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় সিলেটে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানায়, সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এই ঢল অব্যাহত থাকলে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই সুরমা-কুশিয়ারার বেশিরভাগ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে। একই সাথে সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া ও ধলাই নদীর পানিও সমানতালে বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, আগামী আরও অন্তত তিন দিন এই পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
সিটি/লিআ/নিপ্র