শেখ ফয়ছল আহমদ, ওসমানীনগর থেকেঃ সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে জেঁকে বসা প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। হিমেল হাওয়া আর কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কৃষি খাত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার উমরপুর, সাদীপুর, পশ্চিম পৈলনপুর, বুরুঙ্গা, গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীর ও উছমানপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে পুরো এলাকা। দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে মানুষ।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন উপজেলার বোরো চাষিরা। বর্তমানে বোরো ধান রোপণের ভরা মৌসুম চললেও তীব্র শীতের কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা ধানের চারা লালচে হয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র গোয়ালাবাজার ও তাজপুরসহ স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি অনেকাংশে কমে গেছে। শ্রমজীবী ও দিনমজুররা কাজের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের না হওয়ায় রাস্তাঘাট অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়ছে।
ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কেও। দৃশ্যমানতা (Visibility) কমে যাওয়ায় দূরপাল্লার বাস ও মালবাহী ট্রাকগুলোকে দিনভর হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে।
তীব্র শীত থেকে রক্ষা পেতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও পথচারীদের খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এসটি/এসএফএ
