বিশ্বনাথ, (সিলেট) থেকেঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে নির্মমভাবে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ফজর আলীর দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে সিলেটের বিশ্বনাথে জোরালো মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'বিশ্বনাথ নারী শান্তি সহায়ক দল'-এর উদ্যোগে রোববার দুপুরে পৌরসভার বাসিয়া ব্রিজ এলাকায় এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, "ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রিতায় ভোগে বলেই এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। এবার অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।" অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিএফজির নারী এম্ব্যাসেডর নাসরিন সুলতানা। তিনি বলেন, "ধর্ষণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি সমাজের মৌলিক সংকট। ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।"
- স্বপ্না শাহীন (সমন্বয়কারী) ও হাজেরা বেগমের (সচিব) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় নারী নেত্রী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও তরুণ কর্মীরা।
- বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কুদরত পাশা।
- উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ পিস এম্ব্যাসেডর গ্রুপের শারমিন আক্তার, রেসনা বেগম, মুক্তা রাণী নাথসহ অনেকে।
কী দাবি উঠল?
১. **দ্রুত বিচার:** ধর্ষক ফজর আলীর বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি।
২. **নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:** ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের সুরক্ষা এবং মানসিক-চিকিৎসা সহায়তা প্রদান।
৩. **শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:** নারী নির্যাতনের মামলাগুলোতে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তদন্ত।
বিশ্বনাথ পিএফজির সমন্বয়কারী বদরুল ইসলাম মহসিন বলেন, "ধর্ষণের মতো অপরাধ সামাজিক ব্যাধি। এটির বিরুদ্ধে সব স্তরে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।"
গত সপ্তাহে কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারী তার পৈতৃক বাড়িতে বেড়াতে গেলে স্থানীয় যুবক ফজর আলী দরজা ভেঙে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
নারী শান্তি সহায়ক দল জানিয়েছে, তারা এই মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে জাতীয় পর্যায়ে বড় আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছে।
> "ধর্ষকের ফাঁসি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমরা চুপ করে বসে থাকব না," – নাসরিন সুলতানা।
এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অবস্থান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
