সিলেট ট্রিবিউন ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষে দুই তরুণ আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলে থাকা আরও এক যুবক। আজ রবিবার (২৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের বিখ্যাত ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের রমজান মিয়ার ছেলে সৌরভ (১৭) এবং একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে নাঈম (১৭)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত সাব্বির (২৫) একই গ্রামের শহিদ আলীর ছেলে।
শ্রীমঙ্গল সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সৌরভ এ বছর দারুস সুন্নাহ কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা পাস করে বর্তমানে আলিম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিলেন। অন্যদিকে নিহত নাঈম পেশায় একজন ইন্টারনেট (ওয়াই-ফাই) সংযোগ কর্মী ছিলেন। আজ বিকেলে তারা তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে হবিগঞ্জ থেকে শ্রীমঙ্গলের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকা–মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতগাঁও চা কন্যা ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির ‘হানিফ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং আরোহী তিনজনই মহাসড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌরভ ও নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাভিদ রাইয়ান বিন শহিদ জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছিল। অপর আহত যুবক সাব্বিরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন ও লাশ উদ্ধারসহ এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সিটি/লিআ/সিটিডেস্ক
