উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ওসমানীনগর উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং হাওর থেকে সময়মতো পানি নেমে যাওয়ায় এবার দ্রুত চারা রোপণের কাজ এগোচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও সনাতন পদ্ধতিতে আবার কোথাও আধুনিক যান্ত্রিক উপায়ে চলছে চারা রোপণ। মাঠে মাঠে সেচের পানির প্রবাহ আর সবুজ চারার সমারোহে বদলে যাচ্ছে হাওরের দৃশ্যপট। কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে আধুনিক চাষাবাদ ও উন্নত জাতের ধান ব্যবহারের ফলে খরচ কিছুটা বাড়লেও ফলন বেশ ভালো হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার উম্মে তামীমা বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বোরো চারা রোপণ চলছে। কৃষকরা এবার আধুনিক ও উন্নত জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড ধানের প্রতি বেশি আগ্রহী। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শের কারণে এবারও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আশা করছি, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে এবার আবাদ সম্পন্ন হবে।”
প্রথমপাশা গ্রামের কৃষক আলাউর রহমান জানান, বোরো ধানই তাদের পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। সময়মতো সার ও পানি পেলে এবং কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তি বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত হাওর এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের তদারকি করছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলতি মৌসুমে ওসমানীনগরে খাদ্য উৎপাদনে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এসটি/এমএলএ
